নিয়োগের নামে প্রতারণা: ঘুষ নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র, নেই বেতনের দেখা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে জনবল নিয়োগের নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, LGED, LKSS 01793976036 নামক ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বলা হয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে চাকুরী নিশ্চিত।

লোভনীয় বিজ্ঞাপনে চাকুরী প্রার্থীগণ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন অযুহাতে ঘুষ দাবি করে। অনেকেই চাকরির প্রয়োজনে ৩/৫ লাখ টাকা ঘুষ দেয় এবং ওই প্রতারক চক্র নিয়োগপত্র দেয়। চাকরি প্রার্থী যথা সময়ে চাকরিতে যোগদান করে এবং নিয়মিত ডিউটি করে কিন্তু মাস শেষে আর বেতন পায়না, এভাবে মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করার প্রমান পাওয়া গেছে।

এই চক্রের অন্যতম হোতা সোহেল রানা। সে বিগত ফেসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের পি এস জাহিদ চৌধুরীরকে ম্যানেজ করে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখায় বদলি হয়ে আসে। সে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর বিভিন্ন অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি উঠিয়ে নেয় এবং সেটি ব্যবহার করে ব্লাকমেইল করে। সোহেল রানা তাকে বিশেষ ভাবে কব্জায় আনে এবং ক্রেস্ট প্রদান ও একই টেবিলে খাবার খাওয়ার ছবি উঠিয়ে রাখে। ধুরন্ধর সোহেল রানা ওই ছবি গুলো চাকরি, বদলি ও প্রোমোশন প্রত্যাশিদের দেখিয়ে তাদের বুঝায় প্রধান প্রকৌশলীর সাথে তার কত গভীর সম্পর্ক। এভাবে সে মানুষকে ব্লাকমেল করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

WhatsApp Image 2026 04 15 at 2.16.35 PM

চক্রের অন্য সদস্য মোঃ নূরুল ইসলাম, তিনি এলজিইডির কর্মচারী কর্মকর্তাদের সমবায় সমিতি এলকেএসএস- এর ম্যানেজার। ডিপ্লোমা পাশ এই নূরুল ইসলাম ছলে বলে উপজেলা প্রকৌশলীর পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। প্রধান প্রকৌশলীর একই এলাকায় হওয়ায় তিনি ৩-৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে শত শত মানুষের চাকরির নামে ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, গোলাম মওলা সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল প্রকল্পের পিডি। ওই প্রকল্পে কর্মরত একজন কার্যকারী LKSS এর ম্যানেজার নুরুল ইসলামকে তিন লাখ টাকা ঘুষ দেয় এবং নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রের মাধ‌্যমে নিয়োগ পেয়ে যথারিতি যোগদান করে এবং প্রায় এক বছর ডিউটি করিয়ে বেতন না দিয়েই চাকরি থেকে বের করে দেয় ও তার স্থলে নতুন লোক নিয়োগের প্রমান পাওয়া গেছে।

একই ভাবে উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্পের জনবল সরবরাহ সংস্থা LKSS-HRC এর ব্যবস্থাপক মোঃ নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংস্থার প্যাডে ০২/০৬/২০২৫ তারিখ আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ক্যাটাগরি -১ এর আওতায় কার্য সহকারী পদে কুষ্টিয়ার দুই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়। একজনের নাম মোঃ তারেক শেখ নিয়োগপত্রের স্মারক নং HRC/CTCRP/চুক্তি -২৫৯/২০২৪/নথি:৬২২/প্রতি: নিয়োগ/জনবল-৫২-জন/ক্রমিক:২৯ইং তারিখ:০২/০৬/২০২৫, অপর জনের নাম মোঃ আশরাফুল ইসলাম,স্মারক নং HRC/CTCRP/চুক্তি -২৫৯/২০২৪/নথি:৬২২/প্রতি:নিয়োগ/জনবল ৫২-জন/ক্রমিক:৪৩, তারিখ:০২/০৬/২০২৫ইং।

সূত্র জানায়, ওই দুই ব্যক্তি মোঃ নূরুল ইসলামের প্রলোভনে পড়ে সুধে টাকা নিয়ে তিন লাখ করে ৬ লাখ টাকা ঘুষ দেয় এবং ৩/৪ মাস একজন প্রকল্প এলাকা বানারিপাড়া পৌরসভা ও অন্যজন ঝালকাঠি পৌরসভায় যোগনাকরে কাজ করে। বেতন না পেয়ে তারা নিজ বাড়ি কুষ্টিয়ায় চলে যায়। এখন তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং সুদের টাকার খড়গ তাদের গলার উপর ঝুলছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের প্রায় শত ভাগ LKSS -HRC নামক প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহ করে। এ সুযোগেই LKSS নামক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে একটা সক্রিয় চক্র অসহায় সাধারণ বেকারদের টার্গেট করে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, গত প্রায় ছয় মাস এলজিইডির কোন প্রকল্পের আউটসোর্সিং খাতে কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র জানায়, নিয়োগ বানিজ্যের এই চক্রের মুল হোথা LKSS এর ম্যানেজার মোঃ নুরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন এর ব্যাক্তিগত সহকারী সোহেল রানা যিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পি এস সানী’র ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিচয়ে LGED তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই চক্রের আর এক সদস্য LGED প্রধান প্রকৌশলীর ড্রাইভার রফিকুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম এর সহকারীসহ একাধিক ইউ ডি এবং কম্পিউটার অপারেটর জড়িত।

সূত্র জানায়, এই চক্র শুধূ নিয়োগ নয় তারা বদলি, প্রমোশন, পোস্টিং সব বিষয় তাদের বিতরণ। পরবর্তী পর্বে তাদের বদলি বানিজ্য পাঠক সম্মুখে উপস্থাপন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *