আট বছর পর ফাইনালের হাতছানি নিগারদের

ক্রীড়া ডেস্ক : আরও একটি ম্যাচ। এবারও নারী টি-২০ এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল। প্রতিপক্ষ চিরচেনা ভারত। কঠিন চ্যালেঞ্জ। জিততে পারবেন তো নিগার সুলতানারা? নাকি, হেরে যাবেন হারমানপ্রীত কাউরের ভারতের কাছে।

চলতি বছর টি-২০ ফরম্যাটে ভারতের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের ম্যনচেস্টারে নারী টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচটিে ৫ উইকেটে হেরেছিলেন নিগাররা।

এবার প্রতিশোধের ম্যাচে। যদি জিততে পারেন, তাহলে ২০১৮ সালের পর নারী টি-২০ এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। আট বছর আগে, একবারই ফাইনাল খেলেছিল নারী ক্রিকেটাররা। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কিলাত ক্লাব একাডেমি মাঠের ফাইনালে শেষ বলের উত্তেজনায় ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। পুরুষ ও নারী- যে কোনো বিভাগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সাফল্য।

এবার ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হারাতেই হবে ভারতকে।

প্রতিপক্ষ আসরের সবচেয়ে শক্তিশালি দল, তারপরও স্বপ্ন দেখছেন নিগার সুলতানা, ‘সুনির্দিষ্ট দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভারত খুব ভালো এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব আমাদের সেরা পারফরম্যান্স করতে। সেটা করতে পারলেই দিনশেষে ফলাফল মিলবেই। আমরা আমাদের শতভাগ উজাড় করে দিতে চাই। মাঠে নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে চাই।’

নারী টি-২০ এশিয়া কাপের এটা দশম আসর। আগের নয় আসরের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবং একবার করে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ভারত ফাইনাল খেলেছে প্রতিটি আসরেই। সেমিফাইনাল হারমানপ্রীতদের এড়ানোর সুযোগ ছিল নিগারদের। কিন্তু গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে হারানোর সুযোগ পেয়েও হারাতে পারেনি। ফলে ২০২৪ সালের মতো ফের ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে সেমিফাইনালে। দুই বছর আগে ডাম্বুলার একপেশে সেমিফাইনালে হেরেছিল ১০ উইকেটে। দুই দল এখন পর্যন্ত টি-২০ ম্যাচে পরস্পরের বিপক্ষে লড়েছে ১৭ বার। বাংলাদেশের ৩ জয় এবং ভারতের জয় ১৩টি। এক ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

আট বছর আগে ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফাইনালে খেলেছিলেন বর্তমান একাদশের তিন ক্রিকেটার-বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যেতি, লেগ স্পিন অলরাউন্ডার ফাহিমা খাতুন ও বাঁ হাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালের একাদশে দেখা যাবে তিনজনকে। ফাইনালে ভারত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রান করেছিল। নাহিদার স্পেল ছিল ৪-০-১২-০। ফাহিমার স্পেল ছিল ১-০-৮-০। বাংলাদেশ জিতেছিল শেষ বলে একরান নিয়ে। ফাইনালে চার নম্বরে ব্যাটিং করে ২৪ বলে ২৭ রান করেছিলেন ৪ চারে। ফাহিমা ৯ রান করেছিলেন ৭ বলে এক চারে।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ রানার্সআপ হয়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ মিস করে ক্যাচ মিস করে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথম ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ১১৪ রান করে নিগার বাহিনী। দলীটর সেরা ব্যাটার সোবহানা মুস্তারি করেছিলেন ৩৪ রান। তিনিই একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়েঢছিলেন হার্শিথা সামারাবিক্রমার।

যিনি পরবর্তীতে ৪৮ রানের ম্যাচজেতানো ইনিংস খেলেন। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে অবশ্য টি-২০ এশিয়া কাপে প্রথমবার খেলতে আসা ইন্দোনেশিয়াকে পাত্তাই দেয়নি। প্রথম ব্যাটিংয়ে নিগারদের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১২৯ রান। স্পিন অ্যাটাকে ইন্দোনেশিয়াকে ১৭.৩ ওভারে ৫৮ রানে গুটিয়ে জয় তুলে নেয় ৭১ রানের। স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গ্রুপের শেস ম্যাচটি রূপ নেয় মরণ-বাচণের। সেমিফাইনাল খেলতে জিততেই হতো নিগারদের। আমিরাতের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়েও ৭ উইকেটে ১০৩ রান করে। স্পিনারদের সাড়াশি আক্রমণে আমিরাতকে ২০ ওভারে ৬৯ রানে আটকে সেমিফাইনালে উঠে  আসে নিগার বাহিনী। স্পিনারা ছাড়াও প্রতিটি ম্যাচেই নতুন বলে স্ট্রাইক করেছেন সুইং পেসার মারুফা আক্তার। তিনি এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ৭টি। নাহিদা উইকেট নেন ৩টি।

বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় আসরের প্রথম সেমিফাইনাল শুরু হবে। অন্য সেমিফাইনালে ১১ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। ১৩ সেপ্টেম্বর হবে ফাইনাল। এশিয়া কাপ শেষ করে বাংলাদেশ নারী দলের পরের মিশন নাগোয়া-আইচি এশিয়ান গেমস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *