অটোরিকশায় অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ : অটোরিকশায় অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে, সংরক্ষিত নারী আসন-৪ এর সাংসদ রেহানা আক্তার রানু অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত পরিচালনার বিষয়ে নোটিশটি জমা দেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজি বাইকসহ ৫০-৮০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান রয়েছে। বিপরীতে সারাদেশে অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট আছে মাত্র ৩ হাজার ৩০০টির মতো। তবে শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ার পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইক এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান দেশের শহুরে ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে তাদের দ্রুত এবং বহুলাংশে অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট ও পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সারাদেশে চলাচলকারী নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল নীতিমালার আওতায় আনছে সরকার। নতুন নীতিমালার আওতায় অটোরিকশাগুলোর জন্য রুট নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। মহাসড়ক বা প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে এগুলো চলতে পারবে না। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে।

নতুন নীতিমালায় ডিজিটাল ট্র্যাকিং যুক্ত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, একটি যানের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সেই নম্বর দিয়ে ১০-২০টি গাড়ি চালানো হয়। এই জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে অটোরিকশা শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। এতে কর্মসংস্থানও থাকবে, আবার যানজট ও দুর্ঘটনাও কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *