যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তির পথে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা না থাকলেও কিছু ইতিবাচক দিক সামনে এসেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডনের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, আলোচনার শুরু হওয়াটাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। উভয় পক্ষ ইতোমধ্যে লিখিত খসড়া বিনিময় করেছে, যা কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা কমাতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো জটিল ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত থাকায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এই দীর্ঘ সংকট স্বল্প সময়ে সমাধান সম্ভব নয় এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে সময় লাগবে।

বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে আলোচনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে—এমন ধারণা আস্থার সংকটকে আরও গভীর করেছে।

তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গভীর মতপার্থক্য থাকলেও একটি প্রাথমিক চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আলোচনা বন্ধ রাখা এবং ইরানের জনগণের ওপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের মতো ইস্যুগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত বলেও মত দেওয়া হয়েছে।

পারমাণবিক ইস্যুতেও সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি সম্মানজনক অবস্থান নেয়, তবে ইরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া আসতে পারে।

তবে সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান সম্পর্কের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরে তাদের প্রভাবশালী লবি। এই প্রভাব কমানো না গেলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হবে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, আলোচনা চললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থামবে না।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় প্রশ্ন—তারা কি ইসরায়েলের প্রভাবিত পথে এগোবে, নাকি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে।

বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রথম পথটি অঞ্চলকে আরও একটি বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে। তবে ইতোমধ্যে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *