মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা জেরে বাড়লো তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা এবং ইসরায়েলের হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ব্যারেলপ্রতি ৫৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৬ দশমিক ২২ শতাংশ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ফিউচারস ৭৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ডলারে পৌঁছেছে। টানা চতুর্থ দিনের মতো উভয় ধরনের তেলের দামই বৃদ্ধির পথে রয়েছে এবং দিনের শুরুর দিকে এগুলোর দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।

ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে মার্কিন হামলায় ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির উপকূলের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চারজন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় ইরানের সেনাবাহিনীর তিনজন পাইলট নিহত হয়েছেন।

জুলাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় আকারের গোলাগুলির ঘটনা। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ পুনরায় সতর্ক করেছেন, তেহরান হামলা চালালে ইসরায়েল দেশটির সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোসজ এবং জ্বালানি কেন্দ্র অচল করে দেবে। স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেছেন, কাটজের মন্তব্যের পর তেলের দাম আরও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রাথমিক জাহাজ চলাচল তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের ১১টির চেয়ে কম এবং গত ১০ দিনের গড় প্রায় ১৩টির তুলনায় অনেক কম।ইউবিএস-এর জ্বালানি বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, তেলের বাজার সংকুচিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমার ফলে দাম বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও এক্ষেত্রে কিছুটা সহায়তা করে থাকতে পারে।

এদিকে ইরান সেইসব জাহাজের তালিকায় আরও কিছু জাহাজ যুক্ত করেছে যেগুলোকে তারা নিয়ম লঙ্ঘনকারী বলে মনে করে এবং প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জরিমানা, বাজেয়াপ্ত বা আটক করা হবে বলে জানিয়ছে। ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে ইরাকি জাহাজগুলোতে অনুমতি দিয়েছে।

বুধবার দুজন ইরাকি জ্বালানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরাক আগস্টে তার তেল রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক প্রায় ২.৩৪ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত করেছে, যা জুলাই মাসে ছিল প্রায় ১.৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল। সেপ্টেম্বরেও রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ বড় ছাড় এবং ইরাকি ট্যাংকারগুলোর জন্য ইরানের অনুমোদন ক্রেতাদের উৎসাহিত করেছে। তেলের উচ্চ মূল্য এবং এর ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব এই মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর বাজি বাড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *