কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুলের এমডি মাহমুদুর রহমানের একের পর এক কেলেঙ্কারি: অবৈধ নিয়োগ থেকে যৌন হয়রানি পর্যন্ত

এসএম বদরুল আলমঃ কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক কেলেঙ্কারি প্রকাশ পাচ্ছে। আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে কর ও ভ্যাট ফাঁকি, সরকারের অনুমোদন ছাড়া বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া ক্যাম্পাস পরিচালনার অভিযোগ ছিল। এবার সামনে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ—নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানি।

স্কুলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুলশানস্থ এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রতি মাহমুদুর রহমানের অনৈতিক আচরণ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। তবে তার রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পেতেন না।

বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা সবার জানা থাকায়, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নীরব থাকতে বাধ্য হন। জানা গেছে, স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল পাকিস্তানি নাগরিক আয়েশার সঙ্গে মাহমুদুর রহমানের অনৈতিক সম্পর্ক বহুদিন ধরেই ওপেন সিক্রেট ছিল। আয়েশা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া অবৈধভাবে চাকরি করে আসছেন।

সম্প্রতি এক নারী শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিস্তারিত পোস্টের মাধ্যমে এমডির যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ করলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তিনি বর্ণনা করেন—কীভাবে স্কুলের এইচআর ম্যানেজার শুভ্রা তাকে কৌশলে মাহমুদুর রহমানের বাসায় নিয়ে যান, সেখানে একা রেখে চলে যান, এবং এরপর ঘটে অশোভন আচরণ।

তবে পোস্টটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে মুছে যায়। অভিযোগ উঠেছে, বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এমডি গ্রুপের প্রশাসককে ম্যানেজ করে পোস্টটি ডিলিট করিয়েছেন। বর্তমানে ঐ গ্রুপে মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে কোনো নেতিবাচক পোস্টই অনুমোদিত হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, এইচআর ম্যানেজার শুভ্রা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ এবং এক টেলিভিশন চ্যানেলের কারাবন্দী এমডি আরিফের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক অনেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন—মাহমুদুর রহমানের অশোভন আচরণ নতুন কিছু নয়। কেউ তার প্রস্তাবে রাজি হলে বেতন ও পদোন্নতি পেতেন, আর প্রত্যাখ্যান করলে চাকরিচ্যুতি বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন।

আয়েশা ও শুভ্রার সঙ্গে মাহমুদুর রহমানের সম্পর্ক এখন সবাই জানে। তারা এখন তার হয়ে নতুন নারী কর্মী “ম্যানেজ” করার ভূমিকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন সাহসী নারী শিক্ষকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ভেতরের ভয়াবহ বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *