৬ দিনে ১০০টিরও বেশি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন নেপালের এই নারী পাইলট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিধ্বংসী পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম এলাকায় দিন-রাত একটানা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। ৪১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পাইলট মাত্র ৬ দিনে প্রায় ১০০টিরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার মিশন সম্পন্ন করেছেন। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলার তিমুরে এলাকায় তিনি ক্রমাগত হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করে জীবিতদের উদ্ধার ও মৃতদেহ সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অ্যান্ডারসন কুপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়া অধিকারী এই উদ্ধার কাজকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের চেয়েও এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা বেশি জটিল হয়ে পড়েছে, কারণ ধ্বংসযজ্ঞের বড় একটি অংশ নদীর সংকীর্ণ উপত্যকায় সীমাবদ্ধ।

পরিবেশ বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে প্রিয়া প্রথমে ক্যাবিন ক্রু হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি হেলিকপ্টার জয়রাইড তার মনে বৈমানিক হওয়ার স্বপ্ন জাগায়, যা তাঁকে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করে। প্রয়োজনীয় ফ্লাইং আওয়ার সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে তিনি পূর্ণকালীন পাইলট হন এবং পরবর্তীতে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে উদ্ধার অভিযানে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় ৬২০০ মিটার উচ্চতা থেকেও আহত পর্বতারোহীদের নিরাপদে উদ্ধার করেছেন।

বর্তমানে তিঙ্কুরে এলাকায় প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার অত্যন্ত অল্প আকাশসীমায় একযোগে কাজ করছে। কোনো কোনো সময় ৫ থেকে ৬টি হেলিকপ্টারকে একসাথে ল্যান্ড করতে হয়, যার জন্য পাইলটদের রেডিও বার্তার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হচ্ছে। পাহাড়ের কাদা ও মাটির ওপর থেকে স্থানগুলোকে স্বাভাবিক মনে হলেও নিচে প্রকাণ্ড কাদা-ঝুঁকি থেকে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাদা এতই অস্থিতিশীল যে ইঞ্জিনের ক্ষমতা চালু রেখেই ক্ষিপ্রতার সাথে জীবিতদের বিমানে তুলতে হচ্ছে।

আকাশ থেকে দেখা ভয়াবহ দৃশ্য সম্পর্কে প্রিয়া বলেন, চারপাশে লাশের স্তূপের মাঝেই অনেককে বাঁচার আকুতি নিয়ে হাত নাড়তে দেখেছেন। প্রথম দুই দিনেই তিমুরে এলাকা থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে নেপাল সেনাবাহিনীর অগাস্টা হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রিয়া বলেন, প্রতিবার যখন আমি অবতরণ করি এবং মানুষজনকে হাত নাড়তে দেখি, আমি শুধু তাদের বলি;  আপনারা বেঁচে গেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *