২০২৬ বিশ্বকাপে দেখা যাবে না যেসব তারকা ফুটবলারদের

ক্রীড়া ডেস্ক : আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই উত্তর আমেরিকায় বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর—২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ৪৮টি দেশের এই বিশাল মহাযজ্ঞে বিশ্বের সেরা সেরা সব ফুটবলারদের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন সমর্থকরা। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে ফুটবল দুনিয়া। চোটের কারণে কিংবা নিজেদের দেশের বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হতে না পারায়, বেশ কয়েকজন বিশ্বখ্যাত তারকা ফুটবলারকে এবার গ্যালারিতে বসেই কাটাতে হবে পুরো টুর্নামেন্ট।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অনুপস্থিতিগুলো:

বাছাইপর্বের গ্রুপেই স্বপ্নভঙ্গ যাদের

  • রবার্ট লেভানডভস্কি (পোল্যান্ড): গত ৩১শে মার্চ পোল্যান্ডের বিদায়ের পর মাঠ ছাড়ার সময় বার্সেলোনার এই ৩৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি স্ট্রাইকারের চোখ ভেজা ছিল। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নটা তার বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচেই ভেঙে গেছে।
  • জানলুইজি দোন্নারুম্মা ও সান্দ্রো তোনালি (ইতালি): চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ওপর যেন বিশ্বকাপের অভিশাপ লেগেছে। এবার আফ্রিকান প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে তারা। ফলে দোন্নারুম্মার মতো বিশ্বসেরা গোলরক্ষক ও মিডফিল্ডার তোনালিকে এবারও দেখা যাবে না।
  • ভিক্টর ওসিমেন ও আদেমোলা লুকম্যান (নাইজেরিয়া): এবারের বাছাইপর্বে নাইজেরিয়ার বিদায়টা সবচেয়ে বড় চমক। কঙ্গোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে আসর থেকে ছিটকে গেছে সুপার ইগলরা। ফলে আফ্রিকার অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ওসিমেন এবং আফকন কাপের তারকা লুকম্যানের জাদু দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন ফুটবলপ্রেমী সমর্থকেরা।
  • খভিচা কভারাতসখেলিয়া (জর্জিয়া): পিএসজির (PSG) হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও উত্তর আমেরিকার বিমান ধরা হচ্ছে না এই উইঙ্গারের, কারণ তার দেশ জর্জিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি।
  • ব্রায়ান এমবিউমো (ক্যামেরুন): ক্যামেরুন এবার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো ফরোয়ার্ড এমবিউমোকেও মিস করবে কাতার বিশ্বকাপের পর এবারও ক্যামেরুন দল।
  • জান ওবলাক (স্লোভেনিয়া) ও ডমিনিক সোবোসলাই (হাঙ্গেরি): নিজ নিজ জাতীয় দলের এই দুই তারকা অধিনায়কও তাদের দেশের ব্যর্থতার কারণে বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন না।

চোটের নিষ্ঠুর থাবায় ছিটকে গেলেন যারা

একদিকে যেমন বাছাইপর্বের ব্যর্থতা আছে, অন্যদিকে ক্লাব ফুটবলের একদম শেষ মুহূর্তে এসে ইনজুরির কারণে স্বপ্ন ভেঙেছে অনেকের।

১. ব্রাজিলের বড় দুই ধাক্কা (রদ্রিগো ও এস্তেভাও):

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগো এবং তরুণ সেনসেশন এস্তেভাও-এর চোট। গত মার্চে হাঁটুতে গুরুতর চোট পান রদ্রিগো, যা তাকে বছরের শেষ পর্যন্ত মাঠের বাইরে রাখবে। অন্যদিকে চেলসির ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান তারকা এস্তেভাও গত এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে গেছেন। এছাড়া ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও-ও চোটের কারণে বাদ পড়েছেন।

২. ইউরোপীয় তারকাদের চোট:

  • হুগো একিতিকে (ফ্রান্স): লিভারপুলের হয়ে এই মৌসুমে ১৭টি গোল করে ফরাসি দলে জায়গা প্রায় পাকা করে ফেলেছিলেন ২৩ বছরের এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু এপ্রিলে পিএসজির বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে তার অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়ায় ২০২৭ সালের আগে তিনি আর মাঠে ফিরতে পারছেন না।
  • জাভি সিমন্স (নেদারল্যান্ডস): টটেনহ্যামের হয়ে খেলার সময় লিগামেন্ট (ACL) ছিঁড়ে যাওয়ায় ডাচ দলের এই মাঝমাঠের প্রধান ভরসাকে ছাড়াই বিশ্বকাপ পরিকল্পনা করতে হচ্ছে রোনাল্ড কোম্যানকে।
  • সার্জ ন্যাব্রি (জার্মানি) ও ফেরমিন লোপেজ (স্পেন): উরুর চোটের কারণে জার্মানির ন্যাব্রি এবং পায়ের হাড় ভাঙার কারণে স্পেনের তরুণ তুর্কি ফেরমিন লোপেজও দল থেকে ছিটকে গেছেন।

৩. জাপানের জোড়া ইনজুরি:

এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি জাপান দলের তারকা খেলোয়াড় তাকুমি মিনামিনো লিগামেন্ট চোটের কারণে এবং ব্রাইটনের তারকা উইঙ্গার কাওরু মিতোমা হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন।

ফর্মের কারণে বাদ পড়লেন যারা

ইনজুরি বা বাছাইপর্বের বাইরেও কিছু তারকা খেলোয়াড়কে দল থেকে ছেঁটে ফেলেছেন তাদের কোচরা। সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ইংল্যান্ড দল; ক্লাব ফুটবলে অত্যন্ত খারাপ মৌসুম কাটানোর কারণে কোচ সাউথগেট তাদের স্কোয়াড থেকে কোল পামার এবং ফিল ফোডেন-এর মতো তারকাদের বাদ দিয়েছেন। অন্যদিকে ব্রাজিল দলে জায়গা পাননি ফরোয়ার্ড জোয়াও পেড্রো এবং রিচার্নলিসন।

সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ যেমন নতুন তারকাদের জন্ম দেবে, তেমনি এই চেনা মুখগুলোর অনুপস্থিতি ফুটবল ভক্তদের মনে কিছুটা হলেও পুড়াবে।

সূত্র: আলজাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *