সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বেড বরাদ্দে ঘুষ বাণিজ্য: দুদকের অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগী ভর্তি ও বেড বরাদ্দে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ঘুষ বাণিজ্যের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে এই অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা উদঘাটন করে।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. আক্তারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টিম হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে দালালদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করেছে, যারা রোগী ভর্তি ও বেড বরাদ্দের বিনিময়ে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করে। একইসঙ্গে হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, তারা রোগীদের ফ্রি ব্যবহারের ট্রলি ও বেড ব্যবহারের জন্য অর্থ আদায় করে থাকে।
অভিযানের শুরুতে দুদকের সদস্যরা সাধারণ রোগীর ছদ্মবেশে হাসপাতালে প্রবেশ করে বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এসময় দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশে দালালদের অবাধ বিচরণ চলছে, যারা অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে ব্যস্ত। দুদক টিমের কাছে একাধিক রোগী ও স্বজন জানান, ভর্তি প্রক্রিয়া বা বেড বরাদ্দে টাকা না দিলে সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এমন অনিয়মের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালককে অবহিত করলে তিনি দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
অভিযান চলাকালীন দুদক টিম সরকারি সরবরাহকৃত ওষুধ বাইরে বিক্রির অভিযোগেরও অনুসন্ধান শুরু করে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট স্টক রেজিস্টার, ভাউচার ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। টিম এসব নথি পর্যালোচনা শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
এই অভিযানে হাসপাতালের সেবা খাতে গভীরভাবে প্রোথিত অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থার আরেকটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
