সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান, দুর্নীতির অভিযোগে চাপে জাকির হোসেন

এসএম বদরুল আলমঃ সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির নানা অভিযোগ এখন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অভিযোগ পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব মঈন উদ্দিন কাদিরকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্প্রতি সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে নথিপত্র যাচাই, অফিস কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল মঈন উদ্দিন কাদিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পুরো অনুসন্ধান শেষ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে জাকির হোসেনের আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং চাকরিজীবনের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য আছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির নির্ধারিত বেতনের বাইরে তিনি নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। বলা হচ্ছে, ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড এলাকায় তিনি প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন, যার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। এছাড়া তিনি নিজে ব্যবহার করেন প্রায় কোটি টাকার একটি দামি গাড়ি। তাঁর স্ত্রী মনিরা সুলতানাও প্রায় ৫০ লাখ টাকার গাড়িতে চলাফেরা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় জাকির হোসেন একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর ও স্ত্রী মনিরা সুলতানার নামে থাকা একাধিক ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও সামনে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এসব অর্থের উৎস ও বৈধতা যাচাই করছেন। একই সঙ্গে তাঁর গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর এলাকাতেও জমি ও অন্যান্য সম্পদ কেনার অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, একজন সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে জাকির হোসেনের মাসিক সরকারি বেতন প্রায় ৪৫ হাজার টাকা হলেও তাঁর সম্পদের পরিমাণ সেই আয়ের সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। তাই অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন, ঘুষ গ্রহণ, দলিল নিবন্ধনে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলোও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
তদন্ত শেষে সাংবাদিকরা জাকির হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কথা বলেননি। নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন এবং অফিস সহকারী মিজানকে দিয়ে জানিয়ে দেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে সাভারজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই সবার নজর।
