সান্তোস-পেলে-কাফুর কাতারে নেইমার

ক্রীড়া ডেস্কঃ ৯৮১ দিন পর ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেই নতুন এক ইতিহাসের অংশ হলেন নেইমার। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচটিতে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক হন ভিনিসিউস জুনিয়র।
দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে দলে ফেরা নেইমার এই ম্যাচে খেলেই ব্রাজিলের চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের চারটি ভিন্ন আসরে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়েন। এর আগে কেবল সান্তোস, পেলে ও কাফু এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ভিনিসিউস। ইতালিয়ান এই কোচের অধীনে ১৩ ম্যাচে ইতোমধ্যে ৭ গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড। অথচ এর আগে ব্রাজিলের হয়ে ৩৯ ম্যাচে তার গোল ছিল মাত্র ৬টি।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে ভিনিসিউস আরেকটি অনন্য কীর্তিও গড়েছেন। তিনি ব্রাজিলের পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করার নজির স্থাপন করেছেন। তার আগে ১৯৭০ সালে জাইরজিনিয়ো, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রোনালদো ও রিভালদো এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগের চারবারই ব্রাজিল বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারেসের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ভিনিসিউস। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই ছিল তার প্রথম হেড থেকে পাওয়া গোল।
এদিকে মাতেউস কুইয়াও নিজের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন। বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে নেমে প্রথম দুই ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে ফিলিপে কৌতিনিয়ো ব্রাজিলের হয়ে এমন কীর্তি গড়েছিলেন। হাইতির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে জোড়া গোলের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও একবার জালের দেখা পান এই ফরোয়ার্ড।
মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেসও ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশেষ এক রেকর্ডে নাম লেখান। ২০১০ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে কাকার পর এই প্রথম কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার বিশ্বকাপের এক ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করলেন।
অন্যদিকে ব্রাজিলের সাফল্যের সঙ্গে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২০১০ সালে ফাবিও কাপেল্লোর পর প্রথম ইতালিয়ান কোচ হিসেবে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। ১৬ বছর পর আবারও কোনো ইতালিয়ান কোচের দল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় খেলবে।
এই জয়ে টানা ১৫তম বিশ্বকাপে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল ব্রাজিল। সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল সেলেসাওদের। এছাড়া ১৯৮২ সালের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই গ্রুপসেরা হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে তারা।
