রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি এর আগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, রূপালী ব্যাংকের এমডি থাকাকালীন সময় ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক ও আমানতকারীদের বিপুল অর্থ তসরুপ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে তার ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের সন্দেহজনক লেনদেনও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদক দুটি কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের কর্মকালে সংঘটিত একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও অসঙ্গতি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দুদকে পাঠায়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দুদক এ অনুসন্ধান শুরু করে।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর দুদক ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের তৎকালীন জিএম ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, ব্যাংকটির সাবেক এমডি সৈয়দ আব্দুল হামিদসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়। পরবর্তীতে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক এবং পরে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ১১ মাস পর গত জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
এর আগে তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৫ জুলাই বিএফআইইউ তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম, দুই ছেলে জুন্নুন সাফওয়ান ও জুনায়েদ জুলকারনায়েন টিয়ান এবং মেয়ে তাসমিয়া তারান্নুম নওমির ব্যাংক হিসাব তলব করে।
অন্যদিকে, রূপালী ব্যাংকের বর্তমান এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। সবমিলিয়ে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় দুদকের নজর এখন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রাক্তন ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাদের দিকে।
