রাজশাহীতে চাল কেলেঙ্কারি: খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসর, বদলি কর্মকর্তার দ্বৈত দায়িত্বে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামে নিম্নমানের চাল মজুদ ও তা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়াকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে তাকে অবসর দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, তিনি ২৫ বছরের চাকরিকাল পূর্ণ করেছেন এবং সরকারের বিবেচনায় তাঁর দায়িত্বে থাকা অব্যাহত রাখা অনুচিত।

একই ঘটনায় রাজশাহী জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক (সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক) ওমর ফারুককে বদলি করে সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক) মোহন আহমেদ। তবে নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা নিজ জেলার দায়িত্ব নিতে পারেন না—তাতে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ মোহন আহমেদের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।

সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি আপাতত সাময়িক দায়িত্ব। রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মঈন উদ্দিন জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহীর কাছাকাছি হওয়ায় দুই জেলার দায়িত্ব একসঙ্গে সামাল দেওয়া মোহন আহমেদের জন্য তুলনামূলক সহজ হবে। তবে নতুন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক যোগ না দেওয়া পর্যন্তই তিনি এ দায়িত্বে থাকবেন।

চাল নিয়ে এই অনিয়মের সূত্রপাত গত আগস্টে। নিয়ম অনুযায়ী কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে চুক্তিবদ্ধ মিলারদের মাধ্যমে চাল উৎপাদনের কথা থাকলেও, স্থানীয় খাদ্যগুদামে নিম্নমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী চাল মজুদের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সেটি ভালো মানের চাল হিসেবে দেখিয়ে কর্মকর্তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে জানা যায়।

৪ সেপ্টেম্বর বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলাম ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামে হঠাৎ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ খাওয়ার অনুপযোগী চাল উদ্ধার করেন এবং তিনটি গুদাম সিলগালা করে দেন। এ ঘটনায় পরবর্তীতে বাচ্চু মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এর আগেও, ২৬ আগস্ট দুর্গাপুর উপজেলার ইউএনও সাবরিনা শারমিন স্থানীয় খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে একই ধরনের নিম্নমানের চাল উদ্ধার করেছিলেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই গুদাম থেকে প্রায় ৮০ মেট্রিক টন চাল সরিয়ে নেওয়া হয়।

চাল সংগ্রহে এই ধরনের অনিয়মে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই সরকারি খাদ্যগুদামে নিম্নমানের চাল ঢোকানো, পরে তা পাল্টে ভালো চাল দেখিয়ে হিসাব গরমিল করার মতো কারসাজি চলে আসছে। সাম্প্রতিক অভিযানে সেই অনিয়মের অনেকটাই প্রকাশ পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *