মাত্র এক সপ্তাহেই পেছনে পড়ল দুই বিশ্বকাপ, ভাঙনের মুখে ২০ বছরের পুরনো রেকর্ড

ক্রীড়া ডেস্ক : মাঠে রেফারির কঠোর অবস্থান আর খেলোয়াড়দের ভুলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে হু হু করে বাড়ছে লাল কার্ডের সংখ্যা। চলতি আসরের প্রথম ৭ দিনে মাত্র ২৭টি ম্যাচ শেষ হতেই লাল কার্ডের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২০১৮ ও ২০২২ সালের পুরো বিশ্বকাপের রেকর্ডকে। এভাবে চলতে থাকলে ২০০৬ সালের এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৮টি লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার রেকর্ডটি হয়েছিল ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে, যেখানে মোট ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। এর বিপরীতে গত দুটি আসরে কার্ডের সংখ্যা ছিল বেশ কম; ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে পুরো টুর্নামেন্ট মিলিয়ে লাল কার্ড ছিল মাত্র ৪টি করে। তবে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ২৭ ম্যাচেই রেফারিরা ৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন, যার প্রতিটিই ছিল সরাসরি (স্ট্রেট) লাল কার্ড। এর ফলে পেনাল্টি, বক্সের বাইরে বিপজ্জনক সেট পিস এবং একজন কম নিয়ে খেলার কারণে দলগুলোকে মাঠের ভেতরে বড় খেসারত দিতে হচ্ছে।

সাবেক ফিফা রেফারি ও ফক্স স্পোর্টসের নিয়ম বিশ্লেষক মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ লাল কার্ডের এই আকস্মিক বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, “খেলোয়াড়দের আচরণ খারাপ এমনটি নয়; বরং পেনাল্টি বক্স ও তার আশেপাশে প্যানিক বা হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে তারা ভুল করে বসছে। তবে এখন স্কোয়াডে ২৬ জন খেলোয়াড় রাখার নিয়ম থাকায় দলগুলো সহজেই নিষেধাজ্ঞা পাওয়া খেলোয়াড়ের বিকল্প খুঁজে নিতে পারছে।”

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যে ৫ জন ফুটবলার লাল কার্ডের কবলে পড়েছেন:

  • স্পেফেলো সিথোলে (দক্ষিণ আফ্রিকা): উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুটিয়ারেজকে গোল করা থেকে আটকাতে গিয়ে শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ফাউল করে টুর্নামেন্টের প্রথম লাল কার্ডটি দেখেন তিনি।
  • থেম্বা জওয়ানে (দক্ষিণ আফ্রিকা): মেক্সিকোর বিপক্ষেই একই ম্যাচে ব্রায়ান গুটিয়ারেজের মাথায় আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড পান তিনি। ফিফা তাঁর এই ফাউলকে ‘সহিংস আচরণ’ (আর্টিকেল ১৪) হিসেবে গণ্য করে নিষেধাজ্ঞা এক ম্যাচ থেকে বাড়িয়ে তিন ম্যাচ করেছে।
  • সিজার মন্তেস (মেক্সিকো): দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের ইনজুরি সময়ে খুলিসো মুদাওকে ফাউল করে মেক্সিকোকে ১০ জনের দলে পরিণত করেন এই ডিফেন্ডার।
  • তারিক মুহারেমোভিচ (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা): সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রেল এমবোলোকে গোলরক্ষকের সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে যাওয়ার মুহূর্তে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন তিনি।
  • অসিম মাদিবো : সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ইসমায়েল কোনের ওপর একটি মারাত্মক ও ভুল টাইমিংয়ের ট্যাকল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি, যার ফলে কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়।

এছাড়াও কাতারের হোমাম আহমেদ এই তালিকায় রয়েছেন, যিনি বক্সের ঠিক বাইরে তাজন বুকাননকে ফাউল করে মাঠ ছাড়ার পরপরই গোল হজম করে তাঁর দল। টুর্নামেন্ট কেবল শুরু হওয়ায় রেফারিদের এই কড়া মনোভাব বাকি ম্যাচগুলোতে দলগুলোর কৌশলে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *