বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক ফুটবলের ঐতিহ্যকে নষ্ট করছে

ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপে ফিফার চালু করা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতির কড়া সমালোচনা করেছেন উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। তাঁর মতে, এই নিয়ম ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করছে না; বরং খেলাটির ঐতিহ্যগত কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে চলমান বিশ্বকাপে প্রতি অর্ধে একবার করে হাইড্রেশন ব্রেকের ব্যবস্থা করেছে ফিফা। এই বিরতির সময় খেলোয়াড়রা পানি পান করার পাশাপাশি কোচিং স্টাফের কাছ থেকে কৌশলগত নির্দেশনাও নিতে পারছেন।
তবে নতুন এই নিয়ম নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সমালোচকদের দাবি, দুই অর্ধের ৯০ মিনিটের ম্যাচ কার্যত চার ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, যা খেলার স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি এই বিরতি সম্প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ভার্জিল ফন ডাইকও হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নেদারল্যান্ডস অধিনায়কের মতে, এটি মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য পূরণের একটি উপায়।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিয়েলসা বলেন, ‘ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে দুই অর্ধের খেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সেটিকে চার ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। এতে নতুন কিছু যোগ হচ্ছে না, বরং খেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ ফুটবলের প্রেমে পড়েছিল এর স্বতন্ত্র চরিত্রের কারণে। কিন্তু এখন সেই বৈশিষ্ট্য বদলে দেওয়া হচ্ছে। ভিএআরের মতো প্রযুক্তি খেলাকে আরও নিখুঁত করতে সাহায্য করেছে, তবে এই বিরতির পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে হয়।’
বিয়েলসা দাবি করেন, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত মত নয়; ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যেই একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে।
