বিদায় সংবর্ধনার আক্ষেপ: এলজিইডির ইতিহাসে একমাত্র সৌভাগ্যবান কামরুল ইসলাম সিদ্দিক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) — দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও কর্মবহুল এই প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পর থেকে আজ পর্যন্ত অতিক্রান্ত হয়েছে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়। এই সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৮ জন প্রধান প্রকৌশলী। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ছাড়া আর কেউই পাননি বিদায়ী সংবর্ধনার সৌভাগ্য।

১৯৮০ সালের ১৬ জুলাই পল্লী পূর্ত কর্মসূচির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পান প্রয়াত কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারি দফতরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইবি), আর ১৯৯২ সালের ৩১ আগস্ট নাম হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ১৯৯৯ সালের ১৬ মে পর্যন্ত টানা ১৮ বছর ১০ মাস এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি এলজিইডিকে এক আদর্শ ও সফল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেন।

১৯৯৯ সালের ১৬ মে, এলজিইডি ভবনে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে তাকে দেওয়া হয় বিদায়ী সংবর্ধনা। এলজিইডির দ্বিতীয় তলার অডিটোরিয়াম থেকে ভবনের বাইর পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ভিড়ে মুখর ছিল পরিবেশ। আবেগময় বক্তব্যে সহকর্মীরা স্মৃতিচারণ করেন, আর শেষবারের মতো দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। অনুষ্ঠানের শেষে যখন তিনি ভবন ত্যাগ করেন, তখন উপস্থিত সকলের চোখে অশ্রু— যেন এক যুগের সমাপ্তি।

এরপর থেকে আজ পর্যন্ত এলজিইডির আর কোনো প্রধান প্রকৌশলীর ভাগ্যে এমন বিদায়ী সংবর্ধনা জোটেনি। যদিও চতুর্থ প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শহীদুল হাসান একবার আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা পেয়েছিলেন, তবে সেটিই ছিল শেষ। তার পরের ইতিহাস শুধু নীরব প্রস্থান আর উপেক্ষার।

মোঃ নূরুল ইসলাম মাত্র চার মাস প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন; শেষের দিনগুলোতে অসুস্থতার কারণে অফিসে আসতে পারেননি। এরপর দায়িত্ব নেন মোঃ ওয়াহেদুর রহমান, যিনি দীর্ঘ ছয় বছর দায়িত্বে থেকে তিনবার এক্সটেনশন পান। তবে চতুর্থবার ব্যর্থ হয়ে শেষের কয়েকদিন অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ নিয়ে শ্যামা প্রসাদ দায়িত্ব নেন, কিন্তু ওয়াহেদুর রহমান আর ফিরে আসেননি।

পরবর্তীতে আবুল কালাম আজাদ, খলিলুর রহমান, রেজাউল করিম, এ কে আজাদ, শুশংকর আচার্য, মতিয়ার রহমান, আব্দুর রশীদ খান, সেখ মোহাম্মদ মোহসিন, মোঃ আলী আক্তার হোসেন ও গোপাল কৃষ্ণ দেবনাথ— কেউই পাননি বিদায়ী সংবর্ধনার সম্মান। এমনকি মোঃ আব্দুর রশীদ মিয়া সাত মাস প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও শেষ পনের দিন অফিসে আসেননি।

বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেনের দায়িত্ব শেষ হতে যাচ্ছে চলতি মাসের ২৫ তারিখে। তার দফতর এখন ফাইলের স্তূপে পরিণত— সিদ্ধান্তহীনতা আর স্বাক্ষর বিলম্বে স্থবির হয়ে পড়েছে এলজিইডির কার্যক্রম। প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যেই বিরাজ করছে অসন্তোষ।

এখন এলজিইডির ভেতরে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— আনোয়ার হোসেনের কপালে কি জুটবে সেই প্রতীক্ষিত বিদায়ী সংবর্ধনা, নাকি ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় তিনিও বিদায় নেবেন নীরবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *