টেন্ডার ও এনজিও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে প্রভাতী প্রকল্প প্রশ্নের মুখে

বিশেষ প্রতিবেদকঃ এলজিইডি পরিচালিত প্রভাতী প্রকল্পের বারটা বাজিয়ে দিয়েছেন সাবেক পিডি আনিসুল ওহাব। ওটিএম টেন্ডারে ২০-২৫% ঘুষ নিয়ে কার্যাদেশ দিতেন। এনজিও মহিলাদের মাধ্যমে সম্পন্ন কাজে ঘুষের রেট আরও বেশি আদায় করতেন। ওই প্রকল্প ভুক্ত নির্মাণ মার্কেট নির্মাণ সম্পন্ন না করে ফাইনাল বিল পরিশোধ করেছেন অনেক জায়গায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি পরিচালিত একটি প্রকল্পের নাম প্রভাতী। প্রকল্পের নাম প্রভাতী হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতি করে প্রকল্পের বারোটা বাজিয়েছেন সাবেক প্রকল্প পরিচালক বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিসুল ওহাব। সূত্র জানায় সাতশ ৫৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পের পিডি আনিসুল ওহাব পকেটে ঢুকিয়েছেন প্রায় শত কোটি টাকা।

উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক প্রভাতী প্রকল্পের আওতায় যে মার্কেট গুলো নির্মিত হয়েছে তার সিংহভাগ নির্মান সম্পন্ন নাকরেই ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে ফাইনাল বিল পরিশোধ করে আশি ভাগ টাকা নিয়েছেন পিডি আনিসুল ওহাব। সূত্র আরো জানায়, অনেকগুলো স্থানে মার্কেটর লেআউট দিয়ে ব্যাবসায়ীদের নিকট থেকে দোকানের পজেশন বাবদ মোটা অংকের টাকা নিয়ে পিডি পকেটে ঢুকিয়েছেন। সূত্র জানায় কোন কোন মার্কেটে অনৈতিক ভাবে দোকানের পজেশন বিক্রি করেছেন। প্রকল্পের ডিপিপিতে উল্লেখ আছে পিডি দোকানের পজেসন বিক্রি করতে পারবেন না।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় চল্লিশ ভাগ উন্নয়ন কাজ নির্ধারিত এনজিওর মাধ্যমে মহিলাদের দিয়ে কাজ করাতে হবে। সূত্র জানায় পিডি মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে এনজিওর সাথে ৬০/৪০ শেয়ারে নয়ছয় করে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় এনজিও নিয়োগের ক্ষেত্রেও মোটা অংকের ঘুষ বিনিজ্য হয়েছে।

সূত্র জানায়, এনজিও নিয়োগের ক্ষেত্রে পিডি আনিসুল ওহাব ঘুষকে পারদর্শী হিসেবে গণ্য করেছেন,সক্ষমতা নয়। যে এনজিও যত বেশি ঘুষ অফার করেছে তার সক্ষমতা তত বেশি বলে গন্য হয়েছে আনিসুল ওহাবের কাছে।

সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পের ডিপিপিতে যে মার্কেট গুলো নির্মিত হওয়ার কথা ছিল তা সবগুলো নির্মাণ করা হয়নি জায়গা না পাওয়ায়।অনেক গুলো প্রয়োজন মত জায়গা না পাওয়া গেলেও মার্কেট ছোট করে নির্মান করা হলেও ফুল সাইজ মার্কেটের মূল্য উঠিয়ে নিয়েছেন ,ক্ষেত্র বিশেষ এই টাকার পরিমান এক থেকে তিন কোটি পর্যন্ত। সূত্র আরো জানায় সিংহভাগ মার্কেট নির্মাণে অপ্রয়োজনে রিভাইজ করে বাড়তি টাকা ঠিকাদারের সাথে ৬০-৪০ হারে ভাগাভাগি করে ৬০ ভাগ পিডি আনিসুল ওহাব নিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রভাতী প্রকল্পের একাধিক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রভাতী প্রকল্পের কোন টেন্ডার স্বাভাবিক হয়নি , প্রতিটি টেন্ডারে কার্যাদেশের পূর্বে পিডি আনিসুল ওহাবকে তার ঘুষের টাকা গুনে গুনে পরিশোধ করতে হয়েছে। তারা আরো বলেন প্রায় প্রতিদিনই পিডি ব্যাগ ভরে ঘুষের টাকা নিয়ে যেতেন।

আনিসুল ওহাবের বক্তব্য জানতে তার সেল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। আমাদের এক দল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক প্রকল্পভুক্ত এলাকায় ও আনিসুল ওহাবের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয় অনুসন্ধান করছেন তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আপগ্রেড পাঠক সম্মুখে উপস্থাপন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *