পুরনো কেলেঙ্কারির ছায়া: আবারও সক্রিয় হচ্ছে কি ‘বাইক স্ক্যাম’ চক্র?

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশের ই-কমার্স খাতে একের পর এক কেলেঙ্কারির পর যখন ভুক্তভোগীরা এখনো ক্ষত সামলাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় নতুন করে আরেকটি সম্ভাব্য প্রতারণা চক্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—পুরনো বিতর্কিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতায় আবারও সক্রিয় হতে পারে “বাইক স্ক্যাম”।

বিভিন্ন সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এসকে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচিত আল মামুন, যিনি “বাজাজ মামুন” নামেও পরিচিত, নতুন করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মোটরসাইকেল বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকতে পারেন।

পুরনো অভিযোগ, নতুন আশঙ্কা : অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ই-ভ্যালি, আলেশা মার্ট ও কিউকমের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে বাইক সরবরাহের নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মহলে আশঙ্কা—একই ধরনের মডেল ব্যবহার করে নতুন ওয়েবসাইট খুলে আবারও অর্ডার নেওয়া হতে পারে, যেখানে পণ্য সরবরাহ বিলম্বিত বা অনিশ্চিত হতে পারে।

সিআইডির নজরে পুরনো নেটওয়ার্ক : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, অতীতের ই-কমার্স জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অর্থ পাচার ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোও রয়েছে, যেগুলো সিআইডির ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট খতিয়ে দেখছে। একটি মামলার তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজশের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি, তবে তদন্ত সংস্থাগুলো বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

‘চেক ডেলিভারি’ কৌশল—পুরনো ছকের পুনরাবৃত্তি ?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতীতে বাইক সরবরাহের আড়ালে ‘চেক ডেলিভারি’ নামের একটি আর্থিক কৌশল ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে বাইক না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের স্কিমে সাধারণত দ্রুত লাভের লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অর্থপাচার ও সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ : তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতের এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব তথ্য এখনো বিচারাধীন, তবুও সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস ও লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে তরুণ ক্রেতারা :
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকার বা তরুণ উদ্যোক্তারা সহজ কিস্তি বা কম দামে বাইক পাওয়ার আশায় এমন স্কিমে বেশি ঝুঁকে পড়েন। ফলে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।

সতর্কতার বার্তা : অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, অবাস্তব ছাড় বা অফার দেখলে সতর্ক থাকতে হবে, অপরিচিত ওয়েবসাইটে বড় অঙ্কের অগ্রিম পরিশোধ এড়িয়ে চলা উচিত, কোম্পানির লাইসেন্স, ডেলিভারি রেকর্ড ও পূর্ব ইতিহাস যাচাই করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *