পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার (৩১ মার্চ): দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার বর্ষ ১-এর ৩০০ তম সংখ্যায় প্রকাশিতসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় “ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দুই পরিচালক (চঃ দাঃ) এর খুঁটির জোর কোথায়?” শিরোনামের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রতিবেদনে পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ নাঈম গোলদার এবং পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও, সংশ্লিষ্টদের দাবি—উল্লেখিত অভিযোগসমূহ যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে বাস্তবতার প্রতিফলন নেই।
“মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন” : অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, তার অধিকাংশই ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের ফল। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এমন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।
পদোন্নতি ও দায়িত্বপ্রাপ্তি নিয়ে ব্যাখ্যা : নাঈম গোলদারের পদোন্নতি প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা জানান, তিনি চাকরির শুরু থেকেই মেধা, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থা অর্জন করেন। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তিনি পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, শফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করেন সহকর্মীরা।
অভিযোগের পেছনে “স্বার্থান্বেষী মহল” : অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, কিছু প্রভাবশালী ও অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে উক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
রিড ফার্মা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিড ফার্মা লিমিটেড সংক্রান্ত ঘটনায় পরিচালক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পুরনো একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপন বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিষয়টি তখনকার প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং এতে ব্যক্তিগত অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া :
অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এটি মূলত দুই কর্মকর্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা। তারা মনে করেন, এমন সংবাদ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উপসংহার : ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশিত এমন সংবাদ শুধু ব্যক্তি নয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে সত্যনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
