নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ: রেড ক্রস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নেপালে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭৯ জন নিহত এবং ৯৭৭ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারের ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এতে দুই দেশের হিসাবে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ জনে। দুই দেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

বন্যায় অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরুরি সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে পড়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (আইএফআরসি)।

বুধবার হিমালয়ের নেপালের লাংটাং ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় একটি বিশাল হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও বরফ নেমে এসে নদী ও উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এতে একের পর এক গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়।

আইএফআরসি জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনও পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বন্যার পানির তোড়ে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম মূলত হেলিকপ্টারনির্ভর হয়ে পড়েছে। সংস্থাটির নেপাল প্রতিনিধি ডেভিড ফিশার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ শুরু হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বন্যার পর উদ্ধার অভিযানও বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সীমান্তের কাছে ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ উপচে পড়ায় ত্রিশুলি নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করে। এতে উদ্ধারকর্মীদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নেপালের বিদুর শহরসহ বেশ কিছু এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ভয়াবহ। বহু বাড়িঘর কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

জাতিসংঘের নেপাল সমন্বয়কারী লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, বন্যায় ৪০টির বেশি সেতু ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

এদিকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে এবং বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলে যাওয়া এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নেপালের মতো পাহাড়ি অঞ্চলগুলো আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *