নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৬২৩, নিখোঁজ ২৪৮২

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু নেপালেই ৫৭৯ জনের মরদেহ মিলেছে। আর চীনের তিব্বতে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২ জন।
শনিবার এ রিপোর্ট লেখা (সকাল ১০টা) পর্যন্ত বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। অন্যদিকে, চীনের তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে পাঁচজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে দুই দেশ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ৫৮৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয়ের নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ পানির স্রোত নেমে আসে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চীন ও নেপালের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বাণিজ্যকেন্দ্র গিরংও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
বন্যার পর পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে পানি উপচে পড়ায় আরও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও পরে আবার তা শুরু করা হয়।
নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।
৩২০ ভারতীয় এখনো নিখোঁজ
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ২১ জন ভারতীয় কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন। এ ছাড়া ত্রিশূলী ওয়ান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয়কেও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনের অংশে আটকে থাকা আরও ৯৬ জন ভারতীয় স্থলপথে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন। তবে ভারতীয় প্রায় ৩২০ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ভয়াবহ এই দুর্যোগে দুই দেশের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা জানিয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্গতদের খাবার, পানি ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, এনডিটিভি।
