ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর বলে জানানো হয়েছে। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান তিনি। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার।
সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন।
নাগরিক সংবর্ধনায় ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, জেলাটি অনেকটাই অবহেলিত। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবেন।
এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর জন্যও কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন।
মানুষের উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। হানাহানি ও সংঘর্ষের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শহরের প্রধান সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ ও কর্মসূচিস্থলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয়।
