এলজিইডির জলবায়ু প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: প্রকৌশলী ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের পিডি প্রকৌশলী ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে জাতীয় দৈনিকে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২৮ ডিসেম্বর ২৫ তারিখে কাজী গোলাম মোস্তফা ( সাবেক প্রধান প্রকৌশলী) স্বাক্ষরিত ৪৬,০২,০০০০,০০১,২৭,০২৩,২৫,১১৪০৯ নং স্মারকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিসুল ওয়াহাব কে দায়িত্ব দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। 

তদন্ত কর্মকর্তা আনিসুল ওয়াহাব ৬ জানুয়ারি ২৬ তারিখে প্রধান প্রকৌশলীর স্বারক নং ৪৬,০২,০০০০,০০১,২৭,০২০,২৫-১১৪০৯ এর আলোকে ৪৬,০২,০০০০,৩০১,২৭,০০৩,২৬-২৭০৮ নং স্মারকে প্রকাশিত সংবাদের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সহ যাবতীয় প্রমানাধি সহ ১১ জানুয়ারি ২৬ তারিখে অভিযোগের প্রমানক দাখিল করতে অনুরোধ করেন৷

নির্বাহী সম্পাদক প্রতিবেদক সহ স্ব শরীরে হাজির হয়ে প্রমানাধি প্রদর্শন ও তথ্যসূত্র জমা দেন৷ উল্লেখ্য যে প্রকাশিত সংবাদের জনবল নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এল,কে,এস,এস নিয়োগে অনিয়ম, অফিস ভাড়ার ব্যাপারে সরকারি আদেশের প্রমানক, বুয়েটের মত ব্যয়বহুল জায়গায় পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যয়ের উৎস, তিন স্হরের নিরাপত্তা, বিজ্ঞাপন আকারে প্রতিবাদ ছাপানোর ব্যয়ের খাত, উল্লেখযোগ্য বিষয় গুলো এড়িয়ে দায়সারাভাবে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আলোচিত দূর্নীতিবাজ প্রকৌশলী ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে শুরুতেই গুঞ্জন ছিল প্রভাতী প্রকল্পের সাবেক পিডি দূর্নীতিবাজ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিসুল ওয়াহাব কে দিয়ে দূর্নীতির তদন্ত কতটা ফলপ্রসূ হবে। অনেকেই বলতেন এখানেও অনৈক সুবিধা নিয়ে এক দূর্নীতিবাজ আরেক দূর্নীতিবাজকে দায়মুক্তি দিবেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আনিসুল ওয়াহাবের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নিশ্চিত বলা যায়, পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটা ছিল শুভংকরের ফাঁকি। দুদক ই যদি সকল কিছু দেখবেন তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত কমিটির নামে আই ওয়াশের প্রয়োজন ই বা কি ছিল৷

দায়সারাভাবে প্রতিবেদন এবং প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখিত অপরাধ সমুহ উহ্য রেখে একতরফা প্রতিবেদন দাখিলের ব্যাপারে জানতে তদন্ত কর্মকর্তা আনিসুল ওয়াহাবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, দূর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করার জন্য বৈধ প্রতিষ্ঠান দূদক রয়েছে। এটা মূলত দুদকের এখতিয়ার। তিনি এ বিষয়ে দুদকের সাথে যোগাযোগ করার জন্য প্রতিবেদককে পরামর্শ দেন৷

প্রসঙ্গত, দূর্নীতিবাজ প্রকৌশলী ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে দুদকে দুটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি সিলেটের দায়িত্ব পালন কালীন সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ফলে উনার বিরুদ্ধে বন বিভাগ ও দুদক সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন সাবেক প্রকৌশলী কাজী আব্দুস সামাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *