আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে আহত ও দগ্ধ অন্তত ৭, দুজন আশঙ্কাজনক

ডেস্ক নিউজ : সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় অন্তত সাতজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে এবং বিস্ফোরণের চাপে বিভিন্ন কিছু (লোহার/পাইপের টুকরো) পড়ে তাদের কেউ আহত ও কেউ দগ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দগ্ধ ‍দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার সীমানা ঘেরা প্রাচীরের কোণায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে ঘটনাস্থলের ভেতরে পুরোপুরি প্রবেশ করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

বিশেষভাবে তৈরি একটি লরিতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেলেও বিস্ফোরণের প্রকৃত উৎস এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এটি বয়লার নাকি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার হেমায়েত জানান, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। কারখানার সীমানা ঘেরা প্রাচীরের কোণায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হলেও কারখানার ভেতরে শ্রমিক আটকে থাকার কোনো তথ্য তারা পাননি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী রনি জানান, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের আঘাত ও আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হন। তিনি নিজে ঘটনাস্থল থেকে দুইজন দগ্ধ ও গুরুতর আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এছাড়া বিস্ফোরণের ধাক্কায় এবং বয়লার বা পাইপের লোহার বিভিন্ন অংশ ছিটকে পড়ে পাশের রাস্তা ও বাড়িঘরে আঘাত করলে রিকশাচালকসহ অন্তত আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজন দগ্ধ বা আহত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য রেফার করা হচ্ছে।

এদিকে খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন অগ্নিকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। বিস্ফোরণটি বয়লার নাকি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভেতরে প্রচণ্ড আগুন থাকায় উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। বর্তমানে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *