নেপালের চেয়েও মহাবিপর্যয়ের শঙ্কায় সিকিম, ঝুঁকিতে ৪০ হিমবাহ হ্রদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্যাটেলাইট ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হ্রদগুলো পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রাজ্যটির ৪০টি হিমবাহ হ্রদ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি হ্রদকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে তীব্র ঠান্ডার কারণে বরফ জমে বিশাল হিমবাহ ও হ্রদ তৈরি হয়। তবে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ দ্রুত গলতে থাকায় এসব হ্রদে পানির পরিমাণ ও চাপ বাড়ছে। পাহাড়ধস, ভূমিকম্প কিংবা অতিরিক্ত পানির চাপে কোনো হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সিকিমের অতীত অভিজ্ঞতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে একটি হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ৬০ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং একটি বড় বাঁধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সম্প্রতি নেপাল সীমান্তেও একই ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, যা হিমালয় অঞ্চলে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সিকিম সরকার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ‘শাকো ছা’ হ্রদ থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লোনাক ও গুরুডংমার হ্রদের পানির স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতেও বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

হ্রদগুলোর বিপুল পরিমাণ পানি কীভাবে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলোর মধ্যে বড় পাইপের মাধ্যমে পানি পাম্প করে বের করে দেওয়া, সাইফন পদ্ধতি এবং সুরঙ্গ তৈরি করে পানির গতিপথ পরিবর্তনের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নতুন ধরনের সেন্সর ও সাইরেন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হ্রদের পরিস্থিতিতে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দিলে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে নিচু এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *