জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকাল সাড়ে ৯টার পর তিনি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যরা।
সকাল ৯টা নাগাদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে উপস্থিত হন তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর অতিথিদের নিয়ে জাদুঘর ঘুরে দেখেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় এ ভবন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করবেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এখান থেকেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান। এর আগের এক মাসে জনবিক্ষোভে আইনশৃংখলাবাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও হাজার হাজার আহত হন।
অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। পরে এ সরকারের অধীনেই জুলাইয়ের নানা স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে সেই গণভবনে তৈরি করা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।
জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের দিন বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ জনগণের জন্য এটা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থান এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শহিদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যগণ বক্তব্য প্রদান করবেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাস ভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক উপস্থিত সকল অতিথি, জুলাই যোদ্ধা, শহিদ পরিবারের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন।
অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাই যোদ্ধা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। এখানে বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২৫ টাকা টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
