বৃষ্টি কমার আভাস, বাড়তে পারে ভ্যাপসা গরম

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কমায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টি অনেকটাই কমতে পারে। বৃষ্টি কমতে পারে উজানে ভারতের অংশেও। এতে নদ-নদীর পানি কমে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

পাউবো সোমবার উত্তরাঞ্চলের নদী অববাহিকার বন্যা সম্পর্কিত এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগ ও সংলগ্ন  উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হওয়ায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও সামগ্রিকভাবে উত্তরের নদ-নদীর পানি কমছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে উত্তরের বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হতে পারে। 

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ থেকে উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশেই বৃষ্টি ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবার। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণও হতে পারে।

আগামী শুক্রবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টি আরো কমতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে দেশে বৃষ্টি আরো কমতে পারে। সামগ্রিকভাবে বৃষ্টি কমায় তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও কিছুটা বাড়তে পারে। আগামী দুই-তিন দিন চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের পূর্ব অংশ এবং সিলেটে বৃষ্টি তুলনামূলক কিছুটা বেশি থাকতে পারে।

এদিকে আগের দিনের তুলনায় সোমবার দেশে বৃষ্টি কমেছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১৩৬ মিলিমিটার। এছাড়া পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৬০ মিলিমিটার ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় এসময় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *