স্বাস্থ্য প্রতিবেদকঃ অনেকেরই হাঁটাচলার সময় হাঁটু থেকে ‘খচখচ’, ‘কটকট’ বা ‘টিকটিক’ শব্দ হয়। কেউ কেউ ভাবেন, এটি হয়তো বড় কোনো অসুস্থতার লক্ষণ। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, সব ক্ষেত্রে হাঁটুর শব্দ উদ্বেগজনক নয়—তবে কিছু উপসর্গ থাকলে সতর্ক থাকা জরুরি।
কার্টিলেজ ক্ষয় (অস্টিওআর্থ্রাইটিস):
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুর ভেতরের কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি পাতলা হয়ে যায়। এতে হাড়ের সঙ্গে হাড় ঘষে শব্দ হয়। অনেক সময় এর সঙ্গে ব্যথা, ফোলা বা হাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
পুরোনো আঘাত বা ইনজুরি:
আগে লিগামেন্ট ইনজুরি, মেনিসকাস টিয়ার বা ফ্র্যাকচার হয়ে থাকলে হাঁটু থেকে অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন:
ওজন বেশি হলে হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে, ফলে কার্টিলেজ দ্রুত ক্ষয় হয় এবং খচখচ শব্দ হতে পারে।
গ্যাস বাবল ফাটার শব্দ:
হাঁটুর ভেতরের সাইনোভিয়াল তরলে থাকা গ্যাস (নাইট্রোজেন, অক্সিজেন) নড়াচড়ার সময় বাবল আকারে ফেটে শব্দ তৈরি করে। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও ক্ষতিকর নয়।
লিগামেন্ট বা টেন্ডনের নড়াচড়া:
হাঁটু বাঁকানো বা সোজা করার সময় টেন্ডন বা লিগামেন্ট হাড়ের ওপর দিয়ে সরে গেলে ‘স্ন্যাপিং’ বা ‘কটকট’ শব্দ হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাঁটুতে শব্দ হলেও যদি কোনো ব্যথা না থাকে, সাধারণত তা ক্ষতিকর নয়। তবে নিচের উপসর্গগুলোর সঙ্গে শব্দ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
হাঁটুর সঙ্গে ব্যথা বা ফোলা থাকা
হাঁটু হঠাৎ ‘লক’ হয়ে যাওয়া বা আটকে যাওয়া
হাঁটু অস্থিতিশীল মনে হওয়া
দীর্ঘদিন ধরে শব্দের সঙ্গে চলাফেরায় অসুবিধা থাকা
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করতে হবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
হঠাৎ ভারী কাজ বা ওজন তোলা এড়িয়ে চলা উচিত।
হাঁটুর আশপাশের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করা যেতে পারে।
সাইক্লিং ও সাঁতার হাঁটুর জন্য খুবই উপকারী ব্যায়াম।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি বা ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাঁটাহাঁটির সময় হাঁটুতে শব্দ হওয়া অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে যদি এর সঙ্গে ব্যথা, ফোলা বা নড়াচড়ায় অসুবিধা থাকে, তা হতে পারে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা অন্য জয়েন্ট সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণ নেওয়াই উত্তম।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা