নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে এখনো নামেনি বন্যার পানি। হেমন্তের অগ্রহায়ণে সারাদেশে নতুন ধান কাটার উৎসব চললেও চলনবিলের কৃষকদের মুখে শঙ্কা আর হতাশা। জমিতে হাঁটু থেকে হাঁটুর ওপরে পানি থাকায় কৃষকদের ধান কাটতে হচ্ছে নৌকা দিয়ে। এতে বাড়ছে শ্রমিক খরচ, কমছে ফলন।
সরেজমিনে ডাহিয়া ও ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, পানিতে নেমে শ্রমিকরা কষ্ট করে ধান কাটছেন। কাটা ধান নৌকায় তুলে আনা হচ্ছে খোলায়, সেখান থেকে মাড়াই করে তুলছেন ঘরে।
কৃষকেরা বলছেন, দ্বিতীয় দফার আকস্মিক বন্যায় তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতি বিঘায় ফলন হচ্ছে ৫ থেকে ৬ মণ ধান। কিন্তু শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ সব খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে থাকছে মাত্র ১ থেকে ২ মণ ধান।
ইটালী ইউনিয়নের পশ্চিম মাগুড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ভুট্টু বলেন, আমরা তিন ভাই মিলে ৭০ বিঘা ধান করেছি। বেশির ভাগ জমিতে নৌকা নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিকই পাওয়া যাচ্ছে না। পানিতে ধান কাটতে শ্রমিকেরা রাজি হচ্ছেন না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজের জন্য ৫শ থেকে ৭শ টাকা দিতে হচ্ছে।
ইন্দ্রাসন গ্রামের কৃষক সবুজ আলী জানান, ৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান করেছি। ফলন ভালো হলেও খরচ এত বেশি যে ১–২ মণ ধান ঘরে তোলাই কঠিন। এখন বর্গার ধান কীভাবে দেব—দুশ্চিন্তায় আছি।
ডাহিয়া ইউনিয়নের কাউয়াটিকরী গ্রামের কৃষক ফরিদ প্রামাণিক বলেন, প্রতি বছর আমন কেটে সরিষা করি। গত বছর ২০ বিঘা করেছি। কিন্তু এবার জমিতে পানি থাকায় সরিষা বপন করতে পারব কিনা চিন্তায় আছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন এবং ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের বন্যায় বোনা আমনের কিছু ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে আমরা কৃষকদের সহযোগিতা করছি। পানি নেমে যাচ্ছে। সরিষা ও বোরো চাষে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা