
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চারটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চারটি পৃথক মামলা করেছে। এসব মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে, যারা প্রবাসে ১৮ হাজারের বেশি শ্রমিক পাঠানোর সময় সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে প্রায় ৩১০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
গতকাল (১১ নভেম্বর) মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থার মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে চারটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে—
সেলিব্রিটি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান ফরিদা বানু ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল হাই (৭৫),
অদিতী ইন্টারন্যাশনাল-এর স্বত্তাধিকারী বিশ্বজিৎ সাহা (৫৫),
রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল-এর স্বত্তাধিকারী মোহাম্মদ বশির (৬২) এবং
আর ভিং এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্তাধিকারী হেফজুল বারী মোহাম্মদ লুৎফর রহমান (৬৪)-কে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, এই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রবাসী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছেন। সরকার যেখানে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর খরচ ৭৮,৯৯০ টাকা নির্ধারণ করেছিল, সেখানে তারা কর্মীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা নিয়েছেন।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জানা যায়,
সেলিব্রিটি ইন্টারন্যাশনাল ৩,৪৮৬ জন কর্মীর কাছ থেকে ৫৮ কোটি ৩৯ লাখ ৫ হাজার টাকা,
অদিতী ইন্টারন্যাশনাল ৩,৮৫২ জনের কাছ থেকে ৬৪ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকা,
রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল ৩,১৪৮ জনের কাছ থেকে ৫২ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, এবং
আর ভিং এন্টারপ্রাইজ ৮,০৭৭ জন কর্মীর কাছ থেকে ১৩৫ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
এছাড়া, প্রতিজন কর্মীর পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যে অর্থ সরকার নির্ধারণ করেছিল, তা ফেরত না দিয়ে ওই টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এভাবে প্রাপ্ত অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তর ও রূপান্তর করে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে বলে দুদকের দাবি।
তদন্তে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিএমইটি ও সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দুদক প্রাথমিকভাবে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে।
এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(বি)/১৬১/১৬২/১৬৩/১৬৪/১৬৫(ক)/৪২০/৪০৯/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা