
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে পুনের বারামাতিতে তার ব্যক্তিগত বিমানটি অবতরণ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানে থাকা অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজনই ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ)।
নিহতদের মধ্যে দুইজন পাইলট এবং অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মীরা রয়েছেন। স্থানীয় পৌরসভা নির্বাচনের আগে চারটি জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য তিনি মুম্বাই থেকে বারামাতি যাচ্ছিলেন। এই আকস্মিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, ভিএসআর নামক একটি কোম্পানির পরিচালিত ‘লিয়ারজেট ৪৫’ মডেলের ছোট বিমানটি সকাল ৮টায় মুম্বাই থেকে উড্ডয়ন করেছিল। যাত্রার প্রায় ৪৫ মিনিট পর বারামাতি বিমানবন্দরের কাছে অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে যে, বিধ্বস্ত বিমান থেকে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং বিমানের ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। উল্লেখ্য, এই একই মডেলের একটি বিমান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মুম্বাইয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, শ্রী অজিত পাওয়ার জি ছিলেন তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা একজন জননেতা, যিনি মহারাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
প্রশাসনিক বিষয়ে তার প্রজ্ঞা এবং দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নের প্রতি তার নিষ্ঠা ছিল অতুলনীয়। তার এই অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও তার মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই পুনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ারের ভাতিজা। ২০২৩ সালে তিনি এনসিপিতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে দলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে এনডিএ জোটে যোগ দিয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।
তবে সম্প্রতি চাচার সঙ্গে তার পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল এবং পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় পৌর নির্বাচনে দুই পক্ষ মিলেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। সংসদ অধিবেশনের জন্য দিল্লিতে থাকা শারদ পাওয়ার এবং সুপ্রিয়া সুলে খবর পাওয়া মাত্রই পুনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ভারতের বিমান নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা