
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সরকার প্রতিরক্ষা খাতকে আরো শক্তিশালী করতে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা করছে। এই অঞ্চলে ড্রোন, সাইবার প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন হবে—প্রথমে দেশের নিজস্ব চাহিদা মেটানো হবে, পরে বেশি হলে রপ্তানিও করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রতিরক্ষা শিল্প গঠনে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেসবার/বেজা)–র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়। সেখানে উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং বিশেষায়িত ডিফেন্স ইকোনমিক জোন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা তুরস্ক বা পাকিস্তানের মত নীতিমালা দেখভাল করে একটি স্থায়ী সমন্বয় কাঠামো গঠনের পরামর্শ দেন, যাতে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সাথে সরকার ‘প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়ন সম্পর্কিত জাতীয় নীতিমালা’ প্রণয়নের সুবিধার্থে একটি কমিটি গঠন করেছে—কমিটির সভাপতি হবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা উপদেষ্টা। আর সামগ্রিক অগ্রগতি তদারকির জন্য গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প-উন্নয়ন সমন্বয় পরিষদ’ নামের আরেকটি সংস্থাও। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, জোন স্থাপনের বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কাজ চলছে; তবে জোন কোথায় হবে বা কত জমি লাগবে তা এখনো ঠিক হয়নি, কারণ তারা প্রথমে পলিসি ও সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করছে।
বিশ্লেষকরা জানান, প্রতিবেশী দেশগুলো যেমন পাকিস্তান, ভারত ও চীন প্রতিরক্ষা শিল্পে বৃহৎ বিনিয়োগ করছে—বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও এই ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে আছে। তবু তারা বলেন, বাংলাদেশের সামর্থ্য আছে পাকিস্তানের সমমর্যাদায় পৌঁছানোর; তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনী ও শিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
অয়োজন/উল্লেখিত নাম ও পদবী: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), নির্বাহী চেয়ারম্যান — আশিক চৌধুরী। এছাড়া সভায় “উচ্চ পর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা” উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা