নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা দ্রুত ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থাতে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)।
শনিবার সকালে দেওয়া বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বিএমডি জানায়, নিম্নচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করছে। এটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
বিএমডি জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলোকে দূরপাল্লার ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ট্রলার ও মাছধরা নৌকাগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা প্রশাসনগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলোচ্ছ্বাস ও পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিএমডির সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, “বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এটি যদি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তাহলে সেটির নাম হবে ‘মন্থা’, যা ভারতের নামকরণ করা।”
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে উপকূলীয় এলাকার দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষক ও জেলেদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নৌকা ও জাল নিরাপদ স্থানে রাখেন এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ বার্তা নিয়মিত অনুসরণ করেন।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও অবকাঠামো উন্নত হয়েছে, তবে প্রাথমিক সতর্কতা ও সময়মতো সরিয়ে নেওয়া ব্যবস্থা কার্যকর রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা