
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের জিয়াশিং শহরে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা ঘটেছে। প্রেমিকের সঙ্গে রাতভর ঝগড়ার জেরে ২০ বছর বয়সী এক তরুণী ১৮ তলা ভবনের বারান্দা থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বেঁচে গেছেন। নিচে থাকা একটি গাছ তার পতনের গতি অনেকটা কমিয়ে দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১২ জুলাই ভোর সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তরুণীর প্রকৃত নাম প্রকাশ না করে তাকে ‘শিয়াওই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, নিচে থাকা একটি গাছ তার গতি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। পরে তিনি ঝোপঝাড়ের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার পর প্রেমিকই তাকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক খরচ হিসেবে ২০ হাজার ইউয়ান পরিশোধ করেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিয়াওইয়ের মাথা, ফুসফুস, যকৃত ও প্লীহায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়া শ্রোণি ও পিউবিক হাড়সহ দুই পাও ভেঙে গেছে। ইতিমধ্যে দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও একটি অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু অর্থের অভাবে সেটি স্থগিত রাখা হয়েছে।
চেতনা ফিরে পাওয়ার পর শিয়াওই পরিবারকে পুরো ঘটনা বলেন। তার চাচা লি বলেন, ওদের মধ্যে আগেও বেশ কয়েকবার ঝগড়া হয়েছে। সেদিন সারা রাত ঝগড়ার পর আমার ভাতিজির মাথা ঘুরছিল। তখন তার একমাত্র চিন্তা ছিল যেকোনোভাবে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে প্রেমিকের কাছ থেকে দূরে চলে যাওয়া। তিনি আরও জানান, শিয়াওই এখন ওই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত।
চিকিৎসার খরচ পরিবারের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে শিয়াওইয়ের মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ে। তার চিকিৎসায় পরিবারের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়, এমনকি ঋণও নিতে হয়। শিয়াওইয়ের চিকিৎসায় ইতিমধ্যে এক লাখ ইউয়ানের বেশি খরচ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার ইউয়ান এখনো হাসপাতালের কাছে বকেয়া রয়েছে।
অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে পরিবার এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার ইউয়ান পেয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের খরচ কীভাবে মেটানো হবে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
ঘটনার পর পরিবার প্রেমিককে হাসপাতালে দেখা করতে দিতে রাজি হয়নি। তাদের আশঙ্কা ছিল, তার উপস্থিতি শিয়াওইয়ের মানসিক অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রেমিক কয়েকবার হাসপাতালের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ডাকা হলে তাকে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলা হয়।
চাচা লি বলেন, আমার ভাতিজি সত্যিই ভাগ্যবতী। যে জায়গায় সে পড়েছে, তার কয়েক ফুট দূরেই ছিল শক্ত সিমেন্টের মেঝে। সেখানে পড়লে সে মারা যেত।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা