
এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা কাস্টমস হাউসে এনবিআরের আওতায় কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান সম্পর্কে অভিযোগ একটি নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা শুধু সাধারণ রাজস্ব ফাঁকি নয়, মানবস্বাস্থ্য ও জনগণের আস্থা উভয়কেই চ্যালেঞ্জ জানায়। অভিযোগ অনুসারে, মাহমুদুর বহুল অর্থ দিয়ে কাস্টমস হাউস ঢাকায় নিয়োগ পেয়ে, যোগদানের পর থেকেই বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য গুণগত যাচাই–পরীক্ষা ছাড়াই খালাস প্রদান শুরু করেন। বিশেষ করে এমন এক চালান খালাস নিয়ে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে, যেখানে তিন ধরনের সোপ (Lulivera Soap 70g, Dizole Soap 70g, Fixtar Soap) আমদানি করা হয়। এদের মধ্যে প্রথমটি BSTI পরীক্ষায় মানহীন ঘোষণা করা হয়, কিন্তু বাকি দুইটি “নিষিদ্ধ মেডিকেটেড সোপ” হিসেবে বিবেচিত হয় ও আমদানি নীতিমালার বাইরে ধরা হয়। তবুও, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক ওইসব পণ্য অভিযুক্ত মাহমুদুর ঘুষের বিনিময়ে খালাস করে দেন।
তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস হাউসে সাধারণত রাজস্ব কর্মকর্তাদের প্রায় ছয় মাস পর পর বদলি করা হয়, তবে মাহমুদুর এক বছরের অধিক সময় ধরে একই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ ওঠে, তিনি অফিসে ও বাহিরে C&F এজেন্টদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ করেছেন। আরও বলা হয়, তিনি এনবিআর আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অর্থযোগান করেছেন — এ ধরনের ষড়যন্ত্রকে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। এইসব কর্মকাণ্ড শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করেনি, বরং মানুষের স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের ন্যায্যতাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এই ঘটনা শুধু মাহমুদুর রহমানের একার কাজ নয়; বরং এটি কাস্টমস ও এনবিআরের ভেতরে বহুদিন ধরে চলা দুর্নীতির আরেকটি উদাহরণ মাত্র। অতীতে কাস্টমস বিভাগের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ উঠেছে। যেমন, চট্টগ্রাম বন্দরে ৮৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। আবার, কাস্টমসের আরজিনা খাতুন নামে এক কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছিলেন।
এমন ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—কাস্টমসের দুর্নীতি আসলে কোথা থেকে শুরু হয়, আর এর শেষ কোথায়? সরকারের পর্যাপ্ত নজরদারি ও সুষ্ঠু বিচার না থাকলে এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে। এখন এনবিআর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। স্বচ্ছ তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা