নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট, ২০২৬) সকাল ১০:টায় ঢাকায় লালমাটিয়াস্থ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঢাকা জেলার উপপরিচালকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ঢাকার উপপরিচালক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ সময় তিনি নাগরিকদের সুবিধার্থে চালু থাকা "হ্যালো ডিসি" অ্যাপসের কথা উল্লেখ করে বলেন, অ্যাপসটির মাধ্যমে নাগরিকরা যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যা সহজেই প্রশাসনের কাছে পৌঁছাতে পারছেন। বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটার সাথে সাথে তা দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বাল্যবিবাহ ও সহিংসতা প্রতিরোধের নানা বাস্তবসম্মত দিক তুলে ধরেন:
ভুয়া জন্মনিবন্ধন প্রতিরোধ: ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রতিনিধি বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে সঠিক জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক সময় ভুয়া জন্ম সনদের মাধ্যমে বয়স বাড়িয়ে বা কমিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি তথ্যের সঠিকতা যাচাই ও জালিয়াতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।
সামাজিক সচেতনতা ও নজরদারি: স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির প্রতিনিধিরা অভিভাবক ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে তৃণমূল পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
যেকোনো অপচেষ্টা রোধে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সাথে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ওপর তারা গুরুত্ব দেন। সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, "আইন তৈরি হয়েছে মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য। ধর্মের দোহাই দিয়ে বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ ধর্ম কখনো অনিয়ম সমর্থন করে না।" তিনি উল্লেখ করেন, আইনি সহায়তা ও সরকারি সেবা সম্প্রসারণে তাদের অধিদপ্তর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কেবল কোনো একক দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা এবং সাধারণ জনগণকে একসাথে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
উক্ত সভায় সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও প্রতিনিধি, নারী ও শিশু বিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনরা অংশ নেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা