আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের (ইউএনএএমএ) দুই কর্মী আটক হয়েছেন। তাদের সঙ্গে দুই দিন ধরে জাতিসংঘের কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইউএনএএমএ এক বিবৃতিতে জানায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে গত ৯ আগস্ট রোববার দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ‘জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স’-এর কর্মকর্তারা জাতিসংঘের দুই আফগান পুরুষ কর্মীকে আটক করেছেন।
এ বিষয়ে আফগান সরকার এএফপিরকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দপ্তর আটক কর্মীদের বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে।
গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি এবং তাদের সঙ্গে দেখা করারও অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ ও এর কর্মকর্তাদের বিশেষ মানবাধিকার ও দায়মুক্তির বিষয়গুলো মেনে চলতে আমরা কার্যত কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকীর কয়েক দিন আগে এই আটকের ঘটনা ঘটল। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসে।
স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আফগানিস্তানজুড়ে জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।
চলতি সপ্তাহে ইউএনএএমএ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বলপ্রয়োগ, গ্রেফতার ও আটকসংক্রান্ত বিষয় স্পষ্ট করার’ পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে তালেবান কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তান শাসন করছে। তারা ইসলামী আইনের কঠোর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছে।
আফগান নারীদের জাতিসংঘের বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ। এমনকি জাতিসংঘের নারী কর্মীরাও এর আওতাভুক্ত।
গত জুনে হেরাত প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছে প্রায় ২০ জন ত্রাণকর্মীকে আফগানিস্তানের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ আটক করেছিল। তাদের দাড়ি যথেষ্ট লম্বা না হওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়।
একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে এএফপির জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতিসংঘের অংশীদার বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরাও ছিলেন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জুনের শুরুতে তালেবান সরকারের নৈতিকতা-বিষয়ক পুলিশ কয়েক ডজন নারীকে আটক করে। সরকারি পোশাকবিধি লঙ্ঘন করে শরীর পুরোপুরি ঢেকে রাখে এমন চাদর বা বোরকা না পরার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ)-এর একজন হাসপাতালকর্মীও ছিলেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থাটি ওই আটকের তীব্র নিন্দা জানায়।
এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিরল এক বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন করা হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত দুজন নিহত হয়।
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় আফগানিস্তান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি নানা সংকটের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও পাকিস্তান থেকে লাখ লাখ আফগান নাগরিকের দেশে ফিরে আসার বিষয়টিও অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা