বিশেষ প্রতিবেদকঃ বছরের শেষ প্রান্তে এসে চট্টগ্রামে ফের বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি নভেম্বরের প্রথম দুই দিনেই ৮৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ৩ হাজার ৫৯২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে গত অক্টোবরে (৯৯০ জন) এবং তার আগের সেপ্টেম্বরে (৯৩৫ জন)। তবে নভেম্বরের সংক্রমণ নির্ভর করছে বৃষ্টির ওপর। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাসের শুরুতে লঘুচাপের কারণে বৃষ্টি হতে পারে, যা ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে সর্বশেষ মৃত্যু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর—সেদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয় তারা (১৬) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু বেড়লেও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ কমেছে। এ বছর জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৬৯ জন হলেও, নভেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত নতুন আক্রান্ত মাত্র একজন। সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৭০৪ জন, অক্টোবরে ১২১ জন।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এ বছর ডেঙ্গু রোগীদের উপসর্গ কিছুটা ভিন্ন। শক সিনড্রোম ও ডায়রিয়া বেশি দেখা যাচ্ছে, যা রোগীর অবস্থা জটিল করে তুলছে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান এ এস এম লুৎফুল কবির বলেন,“আমাদের হাসপাতালে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। ডায়রিয়া ও বমি হলো ডেঙ্গু ওয়ার্নিং সাইন। এগুলো দেখলে বোঝা যায় রোগীর অবস্থা গুরুতর হচ্ছে।”
কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, থেমে থেমে বৃষ্টি ও উচ্চ তাপমাত্রা চলতি বছর ডেঙ্গু বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছে। সাধারণত বৃষ্টি হওয়ার ২৮ দিন পর্যন্ত মশার প্রকোপ থাকে। ফলে নভেম্বরেও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে নগরের ২৫টি ডেঙ্গু ও ২৫টি চিকুনগুনিয়ার হটস্পট এলাকা চিহ্নিত করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। এসব এলাকায় নিয়মিতভাবে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সরফুল ইসলাম বলেন,“ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী প্রতিটি এলাকায় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।”
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন,“থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে মশার প্রজনন থামছে না। এ মাসে আবার বৃষ্টি হলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।”
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা