
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ওমান উপসাগরে একটি তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সময়ে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকার অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (৮ মে ) উভয় পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অঞ্চলজুড়ে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে 'ওশান কোই' নামের একটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, জাহাজটি ইরানের তেল রপ্তানি ও জাতীয় স্বার্থে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল।
এ ঘটনায় জাহাজে ইরানি বাহিনীর সদস্যদের ওঠার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। বার্বাডোজে নিবন্ধিত ট্যাংকারটি বর্তমানে ইরানি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতে মার্কিন বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাহিনী তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একটি তেলের ট্যাংকার ও আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এতে অন্তত ১০ ইরানি নাবিক আহত হয়েছেন এবং পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ইরান আরও অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হরমুজের পূর্বাঞ্চল ও চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
তবে ট্রাম্প এ সংঘর্ষকে 'সামান্য গোলাগুলি' বলে উল্লেখ করে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ নাকচ করেছেন।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।
ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরানের বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ঘিরে নতুন নৌ-নীতি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তেহরান। “পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি” নামে একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সব জাহাজকে আগেভাগে ইরানকে ই-মেইলের মাধ্যমে মালামাল, গন্তব্য ও উৎপত্তি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। একই সঙ্গে চলাচলের জন্য অনুমতি ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে ইরান।
সূত্র: আল–জাজিরা
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা