ডেস্ক নিউজ : জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় আজ বুধবার এক অভূতপূর্ব এক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের নির্বাচনী এলাকায় হাসপাতাল উন্নয়ন ও বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বক্তব্যের অতিরিক্ত সময় ‘আদায়’ করে নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৮ মিনিট সময় দেওয়া হয়। ফ্লোর পেয়ে তিনি কৌশলী কায়দায় অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানান। আগে চা খাইয়ে, কিংবা আইনজীবী হিসেবে পরিচিতির সুবাদে অন্যরা বাড়তি সময় পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, অনেককে আপনি সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ আপনাকে চা খাইয়েছেন, সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ আপনার সাথে ওকালতি করেন, কোর্টের বারান্দায় ঘুরেছেন, সময় দিয়েছেন। মাননীয় স্পিকার আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা, কমান্ডার ছিলাম। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। কাজেই আমাকে উনার (জিয়াউর রহমান) বদৌলতে সময় ডাবল দিতে হবে মাননীয় স্পিকার।’
এতে ডেপুটি স্পিকার হেসে শর্ত জুড়ে দেন, ‘মাননীয় সদস্য, আপনি যদি আমার থানার দুই হাসপাতালকে ইকুইপ করেন তাহলে দুই মিনিট বাড়াব।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে বলেন, ‘ওকে। আমি প্রতিশ্রুতি দিলাম।’ শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৪ মিনিট বেশি পান তিনি।
এরপর সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে মাত্র ৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। সময় শেষে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বয়স্ক মানুষ হয়ে তিনি পেলেন মাত্র ৫ মিনিট, আর হাসপাতালের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পেলেন প্রায় ১৫ মিনিট। ‘এত বৈষম্য আমরা চাই না মাননীয় স্পিকার’ তার এই মন্তব্যে সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়।
ডেপুটি স্পিকার হেসে জানান, ‘মাননীয় সদস্য, বৈষম্য হচ্ছে না। আমার দুই থানায় শিল্পকলা একাডেমি নেই। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কিছু নেই। তারপরও দুই মিনিট।’ এরপর সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাকে শিল্পকলা একাডেমি দেব। বাদ্যযন্ত্র দেব।’
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা