আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের প্রতিবেদনে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা বলছে, ইংল্যান্ডে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত দুটি শিশু ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে।
ন্যাশনাল চাইল্ড মর্টালিটি ডেটাবেসসহ বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে কিশোর বয়সীদের মধ্যে ছুরিকাঘাতে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ২১ জন, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে।
এই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ভুক্তভোগীদের পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট। গত পাঁচ বছরে ছুরি হামলায় নিহত ১৪৫ জন শিশুর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই ছেলে এবং এদের বিশাল একটি অংশ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা থেকে আসা। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, নিহত শিশুদের এক-চতুর্থাংশ এমন একজনের সাথে বসবাস করত যারা মানসিকভাবে অসুস্থ এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু এমন পরিবারে বড় হয়েছে যেখানে মাদকাসক্তির সমস্যা ছিল। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতার ইতিহাসও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণায় উঠে আসা নৃতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণে একটি বড় বৈষম্য ধরা পড়েছে। নিহতদের ৩২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৩১ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ হলেও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে কৃষ্ণাঙ্গ বা ব্রিটিশ-কৃষ্ণাঙ্গ শিশুরা শ্বেতাঙ্গ শিশুদের তুলনায় ১৩ গুণ বেশি ছুরি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া নিহতদের ৭৫ শতাংশই দেশের চরম দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার বাসিন্দা এবং এক-তৃতীয়াংশ ঘটনায় গ্যাং বা কিশোর অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ড. টম রবার্টস এই পরিস্থিতিকে 'জরুরি অবস্থা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, অনেক শিশু নিয়মিত সরকারি ও সামাজিক সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সংস্পর্শে থাকা সত্ত্বেও তারা পারিবারিক সহিংসতা বা প্রতিকূল শৈশবের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর সহায়তা পায়নি। এই প্রতিবেদনটি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা ও দারিদ্র্যের শিকার শিশুদের জন্য দ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: স্কাই নিউজ
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আকরামুল হক
নির্বাহী সম্পাদকঃএস এম বদরুল আলম
ফোন নাম্বারঃ 01718246730
Copyright © 2025 All rights reserved আজকের ঢাকা